‘মোবাইল টাওয়ারে পাখিরা বংশ বৃদ্ধি করছে’

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:০০  
দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের তেজষ্ক্রিয়তার বিকিরণ মাত্রা জরিপ করতে গিয়ে কয়েকটি টাওয়ারের ওপরে পাখির বাসা বেঁধেছে এবং সেখানে পাখিরা বংশ বৃদ্ধি করছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপ-পরিচালক ড. শামসুজ্জোহা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত টাওয়ার রেডিয়েশনের মানদণ্ড ও সাম্প্রতিক জরিপ শীর্ষক আলোচনা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে এ তথ্য দেন তিনি। তিনি বলেন, “জরিপ করতে গিয়ে কয়েকটি টাওয়ারের ওপরে পাখির বাসা দেখেছি। পাখিরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আছে এবং বংশ বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। অনেক ভবনের ছাদে বাগান করা হয়েছে এবং তাতে খুব ভালো সব্জি ফলন হচ্ছে।” শামসুজ্জোহা বলেন, “রেডিয়েশন দুই প্রকার- আয়োনাইজিং এবং নন-আয়োনাইজিং। এর মধ্যে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেমন পারমাণবিক বর্জ্য, সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রে, গামা-রে কিংবা এক্স-রে। এগুলো শরীরের মধ্যে ডিএনএ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে সক্ষম।” অপরদিকে মোবাইল রেডিয়েশন নন-আয়োনাইজিং উল্লেখ করে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপপরিচালক বলেন, “এর শক্তি খুব কম, ফলে এর কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। মোবাইল টাওয়ারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ইএমএফ রেডিয়েশন বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে এবং আমরা জরিপে পেয়েছি যে দেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর রেডিয়েশন নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে আছে। আমরা ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, সুন্দরবন, ফেনী, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, জামালপুর ইত্যাদি অনেক এলাকায় জরিপ চালিয়েছি এবং এ পর্যন্ত কোথাও নির্ধারিত সীমার বেশি রেডিয়েশন পাইনি।” সুপরিকল্পিত যথেষ্ট সংখ্যক টাওয়ার থাকলে তা কম ক্ষমতার রেডিয়েশন ছড়াবে এবং তা তত বেশি নিরাপদ। আমরা আশা করি এই টাওয়ার রেডিয়েশন নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি আছে তা দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডঃ শামসুজ্জোহা।